বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ব্রিটিশ রানির শেষকৃত্যে সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণ : ব্যাপক সমালোচনা

বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সৌদি আরবের যুবরাজ এবং কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রয়াত ব্রিটিশ রানির শেষকৃত্যে যোগদানের জন্য ব্রিটেনের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে।

সিআইএ-এর এক প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, গত ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের ভিতরে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা ও টুকরো টুকরো করার অনুমোদন দিয়েছিলেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)।

অবশ্য সৌদি যুবরাজ ও তার সরকার এমন অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তবে এরপর থেকে মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিচুশ্রেণীর অমানবিক ব্যক্তি হিসেবে মনে করে পশ্চিমারা। এ কারণে ওই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ব্রিটেনে যাননি। এমনকি তিনি এখন পর্যন্ত এ ইউরোপীয় দেশটিতে যাননি।

সৌদি দূতাবাসের ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ‘এমবিএস’ নামে পরিচিত এ যুবরাজ এ সপ্তাহের শেষে লন্ডনে আসবেন। তবে তিনি সোমবার ব্রিটিশ রানির মূল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেবেন কিনা তা স্পষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপন

নিহত সৌদি সাংবাদিক খাশোগির বাগদত্তা হেতিশে জেঙ্গিজ বলেছেন, এ সৌদি যুবরাজকে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনাটি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্মৃতিকে কলঙ্কিত করবে। মোহাম্মদ বিন সালমান লন্ডনে অবতরণ করার সময় তাকে গ্রেফতার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে এটা বাস্তবে ঘটবে কিনা তা নিয়ে তিনি সন্দেহ পোষণ করেছেন।’

বিজ্ঞাপন

অস্ত্র বাণিজ্যবিরোধী সংগঠন ‘সিএএটি’ সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে একটি উপায় হিসাবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এসব দেশ তাদের মানবাধিকার রেকর্ডগুলোকে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার জন্য এ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ মানবাধিকার সংগঠনটি অনুমান করে যে আট বছর আগে ইয়েমেনে বিপর্যয়কর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, ব্রিটেন সেখানে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের কাছে ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অস্ত্র বিক্রি করেছে।

বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালে এমবিএস ক্রাউন প্রিন্স বা যুবরাজ হওয়ার পর থেকে সৌদির স্বল্প রাজনৈতিক স্বাধীনতাও সম্পূর্ণরূপে হরণ করা হয়েছে। এমনকি শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য সরকারের সমালোচকদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একই সময়ে আপত্তিজনকভাবে মোহাম্মদ বিন সালমান সামাজিক উদারীকরণের একটি বিশাল কর্মসূচি শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সিনেমা ও পশ্চিমা ধাঁচের বিনোদন সৌদিতে নিষিদ্ধ ছিলো এবং তা ইসলামবিরোধী বলে বিবেচিত ছিলো, কিন্তু সালমান যুবরাজ হওয়ার পর এসব বিষয় চালু করা হয়। সূত্র : বিবিসি।

আরইউ/

বিজ্ঞাপন
আরো দেখুন
বিজ্ঞাপন

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

বিজ্ঞাপন
Back to top button