বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মোংলায় ৪০ দিনের কর্মসূচীর তালিকায় চেয়ারম্যানের ভাই!

বিজ্ঞাপন

মোংলা প্রতিনিধি॥

মোংলায় সরকারের অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর (৪০ দিনের কর্মসূচী) টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এমনকি অতি দরিদ্র শ্রমিকদের কাজের তালিকায় তার আপন ভাইয়ের নাম দিয়েও টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ।

কর্মহীন মৌসুমে দুস্থ পরিবারের স্বল্প মেয়াদী কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি টাকা শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে আত্মসাৎতের বিচার চেয়েছেন এলাকাবাসী। আর এসব বিষয়ে বুধবার সরেজমিনে তদন্তে গেলে সংশ্লিষ্ট কাজের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহান আহম্মেদকে চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডলের ভাই কংকন কুমার মন্ডল লাঞ্চিত করেন।

মোংলায় ৪০ দিনের কর্মসূচীর তালিকায় চেয়ারম্যানের ভাই
মোংলায় ৪০ দিনের কর্মসূচীর তালিকায় চেয়ারম্যানের ভাই

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সোহান আহম্মেদ বলেন, মিঠাখালী ইউনিয়নের বসির খন্ড, খানজাহান আলী বাজার ও খড়খড়িয়া এলাকায় ৪০ দিনের কর্মসূচীর কাজের চরম অনিয়ম পেয়েছেন তিনি। বসির খন্ডে ৩৩ জন শ্রমিক থাকার কথা থাকলেও ছিলেন ২৩ জন। খানজাহান আলী বাজার এলাকায় ছিলেন ২৬ জন। অথচ থাকার কথা ২৭ জন এবং খড়খড়িয়া এলাকায় ৩৯ জনের জায়গায় ৩৩ জন শ্রমিক উপস্থিত পান। ঘটনাস্থলে কম শ্রমিক থাকায় শতভাগ উপস্থিত দেখানো হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করায় বসির খন্ড এলাকায় কাজের শ্রমিকের তালিকায় নাম থাকা চেয়রম্যানের ভাই কংকন মন্ডল তাকে লাঞ্ছিত করেছেন। এছাড়া ওই তিন এলাকায় ঠিকমত শ্রমিকেরা কাজও করেননি। অধিকাংশ শ্রমিকের পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট ও পায়ে ছিল চামড়ার জুতা পরা। আর ৪০ দিনের কর্মসূচীর মাটি রাস্তার পাশে না দিয়ে চেয়ারম্যান উৎপল মন্ডল তার বাড়ীর সীমান প্রাচীর মজবুত করতে সেখানে দিয়েছেন। এমন গুরুতর অভিযোগেরও প্রমাণ সরেজমিনে পেয়েছেন বলেও জানান প্রকৌশলী সোহান আহম্মেদ।

মোংলায় ৪০ দিনের কর্মসূচীর তালিকায় চেয়ারম্যানের ভাই
মোংলায় ৪০ দিনের কর্মসূচীর তালিকায় চেয়ারম্যানের ভাই

এ বিষয়ে মিঠাখালী ইউপি চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডল সবকিছু অস্বীকার করে বলেন, নিউজ করে দেন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার ট্যাগ অফিসার সোহান আহম্মেদকে লাঞ্চিত করার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ওই ঘটনায় চেয়রম্যানের ভাই কংকন মন্ডল বুধবার সোহান আহম্মেদের অফিস কক্ষে পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়েছেন। এ সময় তার ভাই চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ৪০ দিনের কর্মসূচী কাজের সকল শ্রমিক উপস্থিত না থাকা, তালিকায় চেয়ারম্যানের ভাইয়ের নাম থাকা ও কর্মসূচীর মাটি তার সামীনা প্রাচীরে দেয়ার বিষয়ে লোক পাঠিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন ইউএনও। তিনি আরো বলেন, এনিয়ে কোন ছাড় দেয়া হবেনা, অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাফর রানা বলেন, আমি নতুন এসেছি, সকলকে চিনি না। তালিকায় চেয়ারম্যানের ভাইয়ের নাম রয়েছে জানতে পেরে চেয়ারম্যানকে বলেছি কেন এমন করেছেন তিনি। আর ট্যাগ অফিসারকে তার ভাই লাঞ্ছিত করেছে এটাও সত্য। শুনেছি তার বাড়ীর সীমানা প্রাচীরের নিচেও কর্মসূচীর মাটি দিয়েছেন। এসব দৃষ্টিকটু দেখায় যা চেয়ারম্যান হিসেবে করা ঠিক না। তাই এসব শুনে বাকী কাজ যাতে ঠিকমত হয় সেজন্য ইউএনও স্যার ও আমি চেয়ারম্যানকে চাপে রেখেছি।

বিজ্ঞাপন

মোঃ এনামুল হক/এমকে

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
আরো দেখুন
বিজ্ঞাপন

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন
Back to top button