বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঈশ্বরগঞ্জে যুদ্ধাপরাধ মামলার আরও তিনজনসহ গ্রেফতার ৭

বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি॥

‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্র্রাইব্যুনালে’র মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আরো তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এনিয়ে এ পর্যন্ত ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্র্রাইব্যুনালে’র মামলায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা থেকে মোট সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) রাতে নিজ নিজ বাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে শুক্রবার (২২ অক্টোবর) সকালে গ্রেফতারকৃতদের ময়মনসিংহ বিজ্ঞ আদালত আদালতে সোপর্দ করা হয়।

‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্র্রাইব্যুনালে’র মামলায় গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন-ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের ইটাউলিয়া গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে মিনু মিয়া (৭৮), সোহাগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে মৌঃ আব্দুল হান্নান (৬৮) এবং জাটিয়া ইউনিয়নের ফানুর গ্রামের মৃত হামিদ ফকিরের ছেলে আব্দুল মান্নান ক্বারী।

তার আগে বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের ইটাউলিয়া গ্রামের সমশের আলীর ছেলে তারা মিয়া (৭০), কালিয়ান গ্রামের মেফর আলীর ছেলে মোঃ রুস্তম আলী (৮১) ও সোহাগী বাজার এলাকার মৃত হোসাইন আহম্মেদের ছেলে সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান (৭২)কে পুলিশ যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেফতার করে পৃথক আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালত গ্রেফতারকৃতদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের ইটাউলিয়া গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে মিনু মিয়া, সোহাগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে মৌঃ আব্দুল হান্নান এবং জাটিয়া ইউনিয়নের ফানুর গ্রামের মৃত হামিদ ফকিরের ছেলে আব্দুল মান্নান ক্বারীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্রাইব্যুনালে ২০২০ সালের ২ নভেম্বর অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করে ট্র্রাইব্যুনাল। পরবর্তীতে তদন্তে হাবিবুর রহমান ওরফে মিনু মিয়া ও মৌঃ আব্দুল হান্নান এবং আব্দুল মান্নান ক্বারীসহ অন্যান্যরা ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মিলে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ধর্ষণসহ নানা অপকর্মের প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্র্রাইব্যুনাল।

বিজ্ঞাপন

‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্র্রাইব্যুনালে’র এমন আদেশে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন বাজার ও নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী এলাকার সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান, আঠারবাড়ির তারা মিয়া ও রস্তম আলীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণ করেন। এছাড়াও গত ২৩ সেপ্টেম্বর আরো ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার কাকনহাটি গ্রামের শহীদুল্লাহ ফকিরকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এনিয়ে এ পর্যন্ত মোট সাত জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

ঈশ্বরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, ‘আটককৃতদের বিরুদ্ধে ট্র্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। কিন্তু আমাদের কাছে এখনো কাগজ না আসায় তাদেরকে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঈশ্বরগঞ্জের ১২ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং সেই তদন্ত শেষ পর্যায়ে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আজিজুর রহমান ভূঁঞা বাবুল/এআই

বিজ্ঞাপন
আরো দেখুন
বিজ্ঞাপন

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

বিজ্ঞাপন
Back to top button